Tuesday, February 26, 2013

জানুনু ক্যান্সারের লক্ষণ.........

কার্সিনোমা শব্দটি ক্যান্সার শব্দের প্রতিশব্দ। এ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার চিকিৎসাবিজ্ঞানী হিপোক্রিটাস। ক্যান্সার সম্পর্কে জানা যায় প্রাচীন মিসরের প্যাপিরাস নামক একটি কাগজে, যাতে আটটি স্তন ক্যান্সারের বিবরণ ছিল। তখন থেকে মানুষ মনে করত ক্যান্সার দেব-দেবীর অভিশাপের ফসল। প্রাচীনকাল থেকেই ক্যান্সার মানুষের প্রাণঘাতী রোগ হিসেবেই পরিচিতি পেয়ে আসছে। তখন থেকেই বলা হতো ক্যান্সারের নেই অ্যানসার। এ মিথ এখন পুরোপুরি অচল। ক্যান্সারের এখন অ্যানসার আছে। বিশেষ করে১৯৯০ সালের পর থেকে বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারকে জয় করে বেঁচে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। শুধু তাই নয়, মোট ক্যান্সারের এক-তৃতীয়াংশ প্রতিরোধ করা যায় ও শুরুতে নির্ণয় করা গেলে ক্যান্সারের চিকিৎসা করিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন ক্যান্সারের টিউমারটি যদি অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার আগেই নির্ণয় করা সম্ভব হয় তবে রোগীর ১০ বছর বেঁচে থাকার হার শতকরা ৯৮.১ ভাগ, যদি আশপাশের লিল্ফম্ফনোডে ছড়িয়ে পড়ে তবে ৮৩.১ ভাগ আর যদি দেহের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে তবে মাত্র ২৬ ভাগ। ক্যান্সারযত তাড়াতাড়ি নির্ণয় করা যায় ততই ভালো। এ জন্য ক্যান্সারের লক্ষণগুলো জানাথাকলে সহজেই ক্যান্সার সম্পর্কে ধারণা নিয়ে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ আছে। জনসাধারণের পক্ষে এত জানা ও মনে রাখা সম্ভব নয়। এ কথা বিবেচনা করে ও প্রধান ক্যান্সারগুলোর কথা মাথায় রেখে আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি ক্যান্সারের জন্য সাতটি বিপদ চিহ্ন ঘোষণা করেছে। এ এগুলো হলো_ ১. স্তনে শক্ত চাকা বা শরীরের অন্য কোনো স্থানে শক্ত চাকা, ২. শরীরের কোনো স্থানের ঘা যেটাসহজেই সারছে না, ৩. হঠাৎ তিল বা আঁচিলে পরিবর্তন দেখা দেওয়া, ৪. দীর্ঘদিন ধরে কাশি বা ভগ্ন কণ্ঠ, ৫. মাসিকের সময়অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা মাসিকের সময় ছাড়া অন্য কোনো সময় রক্তক্ষরণ এবং মুখ, মলদ্বার বা অন্য কোনো স্থান দিয়ে নিয়মিত রক্তক্ষরণ, ৬. দীর্ঘদিন ধরে পেটের হজমে সমস্যা বা খাবার গলাধঃকরণে কষ্ট হওয়া ৭. প্রস্রাব-পায়খানায় পরিবর্তন। এ সমস্যাগুলো দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

সূত্র : ঢাকানিউজ24ডটকম

No comments:

Post a Comment