Thursday, February 28, 2013

বড়লেখায় পুলিশের গুলিতে নিহত ২ : ৩ গুলিবিদ্ধসহ আহত ৪০ : ২০রাউণ্ড গুলি বর্ষণ : র‌্যাব-বিজিবি মোতায়েন.....


মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পিকেটাররা শহরসহ বাইরের বিভিন্ন স্পটে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। শহরে পুলিশের কঠোর অবস্থানেরকারণে মাঠে নামতে পারেনি জামায়াত-শিবিরের কেউ। উপজেলার কাঁঠালতলী এলাকায় পুলিশের গুলিতে ২ জন নিহত এবং৩ জন গুলিবিদ্ধসহ ৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২০ রাউণ্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীসহ থানা পুলিশ সূত্র জানায়, উপজেলার কাঁঠালতলী, দক্ষিণভাগ ও সুজানগর ইউনিয়নের তাওহিদী জনতা ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা দুপুর থেকে দক্ষিণভাগ বাজার, কাঁঠালতলী বাজারে লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় গাছ ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এ সময় বিভিন্ন দোকানপাট ভাংচুর এবং স্থানীয়একটি সমিলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে দক্ষিণভাগ থেকে মিছিল সহকারে বড়লেখা আসার পথে কাঁঠালতলী নিখড়ীছড়া ব্রীজের পাশে বিকেল আনুমানিক৫টায় পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ঘটে। এ সময় পুলিশের গুলিতে পূর্ব গাংকুলগ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে লোকমান নামের ১৪ বছরের ১কিশোর নিহত হয়েছে। সে স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতো বলে জানা গেছে। এছাড়া হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছে দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের দোহালিয়া গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে শিবির কর্মী আব্দুর রহমান (২০)। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন রিপন মিয়া, নইম উদ্দিন ও অজ্ঞাত একজনসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে সুজানগরের বড়থল গ্রামের আখই মিয়ার পুত্র রিপন মিয়া মারাত্মক আহত হয়েছেন। তার অবস্থা সংকাপন্ন। আহতদের জুড়ী, কুলাউড়াসহ জেলার বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ এ পর্যন্ত ২০ রাউণ্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছে। পুরো উপজেলায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছেন। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। র‌্যাব, বিজিবিসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে আহতের সংখ্যা জানা গেলেও নিহতের ব্যাপারে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

No comments:

Post a Comment